তারা আছ গো অন্তরে, মা আছ গো অন্তরে,
কুলকুন্ডলিনী ব্রহ্মময়ী মা।।
এক স্থান মূলাধারে, আর স্থান সহস্রারে,
আর স্থান চিন্তামণিপুরে।
শিব শক্তি সব্যে বামে, জাহ্নবী যমুনা নামে,
সরস্বতী মধ্যে শোভা করে।।
ভুজঙ্গরুপা লোহিতা, স্বয়ম্ভূতে সুনিদ্রিতা,
এই ধ্যান করে ধন্য নরে।
মূলাধার স্বাধিষ্ঠান, মণিপুর নাভিস্থান,
অনাহত বিশুদ্ধাখ্য বরে।।
বর্ণরুপা তুমি বট, ব, স, ব, ল, ত, ক, ক, ঠ,
ষোলো স্বর কণ্ঠায় বিহারে।
হ, ক্ষ, আশ্রয় ভুরু, নিতান্ত কহিলা গুরু,
চিন্তা এই শরীর ভিতরে।।
ব্রহ্মা আদি পাঁচ ব্যক্তি, ডাকিন্যাদি ছয় শক্তি,
ক্রমে বাস পদ্মের উপরে।
গজেন্দ্র মকর আর, মেষবর কৃষ্ণসার,
আরোহন দ্বিতীয় কুঞ্জরে।।
অজপা হইলে রোধ, তবে জন্মে তার বোধ,
গুঞ্জে মত্ত মধুব্রত স্বরে।
ধরাজল বহ্নি বাত, লয় হয় অচিরাৎ,
যং রং লং বং হং হোং স্বরে।।
ফিরে করো কৃপাদৃষ্টি, পুনর্বার হয় সৃষ্টি
চরণযুগলে সুধা ক্ষরে।
তুমি নাদ তুমি বিন্দু, সুধাধার যেন ইন্দু,
এক আত্মা ভেদ কেবা করে।।
উপাসনা ভেদ ভেদ, ইথে কোনো নাহি খেদ,
মহাকালী কালপদভরে।
নিদ্রাভঙ্গে যার ঠাই, তার আর নিদ্রা নাই,
থাকে জীব শিব কর তারে।।
মুক্তি-কন্যা তারে ভজে, সে কি আর বিষয়ে মজে,
পুনরপি আসিয়া সংসারে।
আজ্ঞাচক্র করি ভেদ, ঘুচাও ভক্তের খেদ,
হংসীরুপে মিল হংসবরে।।
চারি ছয় দশ বারো, ষোড়শ দ্বিদল আরো,
দশ শত দল শিরোপরে।
শ্রীনাথ বসতি তথা, শুনি প্রসাদের কথা,
যোগী ভাসে আনন্দসাগরে।।