হেরো, কার রমণী নাচে রে ভয়ংকরা বেশে।
কে রে নব-নীল-জলধর-কায় হায় হায়,
কে রে হরহৃদি হৃদপদে দিগবাসে।।
কে রে নির্জনে বসিয়া নির্মাণ করিল,
পদ রক্তোৎপল জিনি,
তবে কেন রসাতলে যায় ধরণি,
হেন ইচ্ছা করে, অতি গাঢ় করে,
বাঁধি প্রেমডোরে, রাখি হৃদি-সরোবরে,
হিল্লোলে ভাসে।।
কে রে নিন্দিত রামকদলীতরু, হেরি উরু,
দরদর রুধির ক্ষরে,
যেন নীরদ হইতে নির্গত চপলে,
অতি রোষবলে, ভুজঙ্গমদলে,
নাভিপদ্মমূলে, ত্রিবলীর ছলে, দংশিল এসে।
কে রে উন্নত কুচ-কলি, মুখশতদলে অলি,
গুনগুন করিয়া বেড়ায় যেন বিকশিত,
সিতাম্ভোজ বনরোহায়, কীবা ওষ্ঠ শোভা,
অতি লোল জিহ্বা, হরমনোলোভা,
যেন আসব-আবেশে, শিশু সুধাভাসে।।
কে রে কুন্তলজালে আবৃত মুখমন্ডল,
লম্বিত চুম্বি ধরায়, তাহে ভুরুধনুর্বাণ সন্ধান করা
অর্ধচন্দ্রভালে, শিতি মুহু দোলে, কী চকোর খেলে
কীবা অরুণকিরণে গজমতি হাসে।
কত দুন্ধবা দুন্ধবি নাচিছে ভৈরবী,
হিহি হিহি করিছে যোগিনী,
কত কটোরা ভরিয়া, সুধা জোগায় অমনই,
রামপ্রসাদ ভণে, কাজ নাই রণে,
এ বামার সনে, যার পদতলে,
শব-ছলে আশুতোষে।।