কান্দে রাধা চন্দ্রমুখী দিবসরজনী
গোবিন্দ ছাড়িয়া গেলা মুই অভাগিনী।
চৈত্রমাসের দিন নিদ্রার আবেশ
আমায় ছাড়িয়া কৃষ্ণ রইলা কোন দেশ।
কোন দেশে রইলা ঠাকুর নিলয় না জানি
গোকুলে কান্দিয়া বেড়ায় রাধা বিনোদিনী।
বৈশাখ মাসের দিন বিরহিত হইয়া
শীতল চন্দন রাধে অঙ্গেতে লাগাইয়া।
শীতল চন্দন অঙ্গে লাগাও সখীগণ
বন্ধু দরশন বিনা বাঁচে না জীবন।
জ্যৈষ্ঠ মাসের দিন ফুটে নানান ফুল
রাধার বন্ধু কুঞ্জে নায়, রমণীর পুড়ে বুক।
আষাঢ় মাসের দিনে আশা ছিল মনে
আসিবা ঠাকুর কৃষ্ণ রথযাত্রা দিনে।
শ্রাবণ মাসের দিনে দেখিলা স্বপন
শিয়রে গোবিন্দ বইছইন প্রভু নারায়ণ।
ভাদ্রমাসের দিনে ধাদা ছিল মনে
ভাণ্ড ভাঙ্গি মাখন খাইব গোয়ালের বাথানে।
আশ্বিন মাসের দিনে উদ্ভবরে জিজ্ঞাসে
যাইবা নি রে প্রাণ উদ্ধব শ্রীকৃষ্ণের উদ্দেশে।
একথা শুনিয়া উদ্ধব করিলা গমন
শ্রীকৃষ্ণের সাক্ষাতে উদ্ধব দিলা দরশন।
উদ্ধবরে দেখিয়া কৃষ্ণ জিজ্ঞাসে কুশল
কুশলে নি আছইন আমার রমণী সকল।
কার্তিক মাসের দিনে উদ্ধব আইল দেশে
কান্দিয়া কান্দিয়া রাধা উদ্ভবরে জিজ্ঞাসে।
কহ কহ আরে উদ্ধব কহ রে কুশল
কুশলেনি আছইন আমার শ্রীমধুসুদন।
অঘ্রান মাস হইল শেষ পৌষের তিন দিন
এবো তো না ঠাকুর কৃষ্ণের দেশে আইবার চিন
মাঘ মাসের দিন ভীম একাদশী
স্নান করিতে চলিলা রাধা তীর্থ বারাণসী।
সোনা না হয় রুপা না হয় অমূল্য রতন
সধবা থাকিতে রাধার বিধবা লক্ষণ।
ফাল্গুন মাসের দিন দোল পূর্ণমাসী
আসিলা ঠাকুর কৃষ্ণ আবীরের বৃষ্টি।
ভাবিয়া রাধারমণ বলে শুন সখীগণ
রাধাকৃষ্ণের মিলন হইল রসবৃন্দাবন।।