তুমি না জানাইলে তোমারে কে জানে ।
ষড় দরশনে না পায় দরশন, অন্ত নাহি পায় বেদ পুরাণে ।
অবধি হইতে পর্য্যন্ত পর্যন্ত, তব মহিমার নাহি আছে অন্ত,
অনাদি অনন্ত সর্ব পরিব্যাপ্ত, জুড়িয়ে রয়েছো ক্ষিতি বিমানে ।
বহুরুপী ভাবে স্বভাব তোমার, ভাবিয়ে কে পারে অকূলে কিনার,
তুমি হবে যার হৃদয়ে তাহার, জানাইয়ে দেও আপনি আপনে ।
কঠোর তপস্যা বেদ অধ্যয়ন, শ্বাস অবরোধ কিম্বা অনশন,
যাগ যজ্ঞ যোগ নিবৃত্তি শাসন, দ্বৈত জ্ঞান করি ভাবে সাধারণে ।
অদ্বৈত অদ্বৈত বিশিষ্ট অদ্বৈত, তোমারে কে জানে করে মত দ্বৈত,
যা আছে জগতে বৈধ কি অবৈধ, কর্তা কর্ম তুমি তোমারই বিধানে ।
চন্দ্র সুর্য গ্রহ ঘুরে অনিবার, ষড় ঋতু সঙ্গে, সঙ্গে সঙ্গে তার,
বিমান ক্ষিতি যোগে হয়ে একাকার, এক বিনে দুই নাই ভুবনে ।
অখণ্ড অসীম পরম অব্যয়, খণ্ড জ্ঞানে লণ্ডভণ্ড সমুদয়,
একেরই কাণ্ড বিশ্ব ব্রহ্ম অণ্ড, প্রকাণ্ডেতে খণ্ড ভাবে ক্ষুদ্র জ্ঞানে ।
ভাবিতে ভাবিতে হলে ব্রহ্মভাব, খণ্ড জীবে ফুটে প্রকাণ্ড স্বভাব,
স্থূল সুক্ষময় ব্রহ্ম দয়াময়, কৃপাহি কেবল সত্য এ ভুবনে ।
কারণের গতি কর্মেতে বিকাশ, কর্মই কারণ নিত্য চিদাভাস
সৎ সত্য সৎ স্বতঃ স্বপ্রকাশ, বিকাশ নাহি আর মনোভাবে মনে ।।