অনন্ত পাথারে ভাসায়ে আমারে, নিতেছে না জানি কে কোথায় ।
তরঙ্গে তরঙ্গে উজান ভাটি রঙ্গে, সঙ্গে নাহি দেখি তায় ।
কোথা হতে আসি ভাসি লাগে ঢেউ, পরপারে তার আছে নাকি কেউ
নইলে এমন করে হৃদয় ভিতরে, হাসায়ে হাসায়ে কান্দায়ে যায় ।
দূরে দূরে দূরে কত দূরে থাকি, থেকে থেকে মাঝে মাঝে মারে উকি
চঞ্চল আঁখিঠারে, নিমিষে আমারে, ভুলায়ে দূরে অমনি লুকায় ।
বারে বারে তারে ফিরে ফিরে চাই, ধীরে ধীরে সরে পাছে পাছে ধাই
ধরা দিবে বলে দেই প্রাণ খুলে, ডাকি বাহু তুলে আয় আয় আয় ।
কাছে আছি বলে কি জানি কি পেয়ে, মেতে ওঠে প্রাণ কখন হাসি দিয়ে
কারে ভালবাসে, কেন কান্দে হাসে, কোথায় আছে সে, আমি বা কোথায় ।
নাহি তার সঙ্গে আলাপ পরিচয়, তবু তার লাগি উদাসী হৃদয়
সে আমারে চায় আমার প্রাণ তায়, কোথা যেতে জানি তরঙ্গ খেলায় ।
পাবো বলে তারে আশা করে করে, ভেসে দেশে দেশে অনন্ত পাথারে
চলছে মনো ধেয়ে, পাবে কোথা গিয়ে, টান দিলে নাকি প্রাণে পাওয়া যায় ।।