নালতা আর ধনে একদিন লাগলো ঘোর বচসা
শুনে সব গ্রামের লোক, দেখতে এলো তামাসা ।
নালতায় কয় ধানের মন্দ, সকল জমি করলে বন্ধ
তোমার লাগি পারলামনা আমি একা হতে বাদশা ।
আমি যারে কৃপা করি, লোহার সিন্দুক টিনের বাড়ি
নাম খুলায়ে দেই ব্যাপারী, নারায়ণগঞ্জে যাওয়া আসা ।
চলতি হয় তার রাজ্য ছাড়া, কথা কইতে দেয় হাত নাড়া
যত ছোট মানুষ বড় করা, আমার কার্য্য হামেশা ।
নানা রঙ্গের ধূতি শাড়ি, আনি দেই গৃহ নারী
পড়ে বেড়ায় কুটুম বাড়ি, কি সুন্দর খাসা ।
ধান বলে রাখ বাহাদূরী, কার জোরে হায় দৌড়াদৌড়ি
আমি যদি জগত ছাড়ি, হবে কি দশা ।
শোন বলি ওরে জঘন্য, ক্ষুধায় যদি না পায় অন্ন
সকল হয়রে ছিন্ন ভিন্ন, মান্য গণ্য সব মিছা ।
মনোমোহন কয় সত্য বটে, ধান থাক মোর শিরে উঠে
হা ভাত এলো নালতার ঠোটে, করনারে গোসা ।।
রাগিনী ঝিঝিট, তাল কাওয়ালী ।
ছবকি ধামালে আমার কান করে ঝালাপালা ।
এখনে বাজাইয়ে দাও ঢিমে একতালা ।
মধ্যমানে মধ্যমান, আটকাইয়া ধর প্রাণ
মূলতানে উজান গেয়ে, ধেয়ে যাক উপরতলা ।
চৌতালে হয় চৈতাল, বেতালেতে দিচ্ছে তাল
খেমটা খেয়াল তাল দিওনা, থাকতে দাও নিরালা ।
সুর তাল লয় জ্ঞান, জানিনা অতি অজ্ঞান
মনোমোহন কয় ধরা দে প্রাণ, প্রাণের তানে এই বেলা ।।