মৎস্য মাংস নিরামিষে দ্বন্দ্ব হলো ঘোরতর ।
দেখে সব জগতের লোক হলো আসি একত্তর ।
মৎস্য মাংস কয় সরোষে, দুর্বল করে নিরামিষ
বলীর বল বাড়াইতে মোরা নিত্যই আছি অগ্রসর ।
হিন্দু নারীর স্বামী মইলে, নিরামিষ খায় দুঃখে জ্বলে
হয়ে শক্তিহারা কপাল পোড়া, যৌবনে হয় জড়সড় ।
যত সব অভাগার ছেলে, তারা মোদেরে মন্দ বলে
তন্ত্র শাস্ত্র দেখ খুলে, বিধি আছে বহুতর ।
না হইলে শক্তি বৃদ্ধি, হয়না কখনও শক্তি সিদ্ধি
তাই রয়েছে শিবের উক্তি, পঞ্চমকার কর নর ।
তা শুনে নিরামিষে কয়, ওসব কথা রাখ মহাশয়
মিলে যত সব দুরাশয়, জীব হিংসা করে মর ।
সর্বদা মাংস ভক্ষণে, হিংসা বৃত্তি বাড়ে মনে
কাম ক্রোধ লোভ মোহ, সবাই বাড়ে খরতর ।
নিস্কামী বৈষ্ণবের প্রাণে, আমি দেই বৈরাগ্য এনে
শুদ্ধা ভক্তির আকর্ষণে, পবিত্র হয় অন্তর ।
তুই বেটা জোর জবরে, দ্বন্দ্ব লাগাস ঘরে ঘরে
আমি যত পরস্পরে, টেনে আনি একত্তর ।
করে দেই চিত্তশুদ্ধি, প্রাণে দেই শুদ্ধা ভক্তি
মনোমোহন কয় ভালো উক্তি, যার যা রুচি তাই কর ।
না হইলে ভাবের সঞ্চয়, নিরামিষে কিছু না হয়
স্বভাবে যার আছে স্বত্ব, কাজ নাই তার বিধি বিধানে ।।