চিরদিন অসমর্থ তব আজ্ঞা পালনে
সদা পদ বিচলিত, তব পশ্চাৎ ধাবনে ।
তোমারই প্রেরণা মনে, ধাইতে তব সদনে
জড়িত কর্ম শাসনে, পরাজিত সম্মুখ রণে ।
তব রুপ যোগমায়া, নানা ভাবে ধরি কায়া
আঁধারে যেন আলেয়া ছায়া, করে ক্ষণে ক্ষণে
কি করি পারিনা তারে, নিবারিতে বারে বারে
আবরিত মুক্ত দ্বারে ভ্রুকুটি হেরি বদনে ।
তব ইচ্ছা শিবাশিব, অপূর্ণ পূর্ণ বিভব
লীলাতে নিত্য সম্ভব, অনুভব করি মনে ।
অকৃত্রিম তব রাজ্য, কৃত্রিম কৌশল বাহ্য
বিনা তাই তব কার্য্য ন্যায্য কি অন্যায্য মনে ।
যদি বলি আমি করি, মীমাংসাতে দোষ হেরি
তুমি করো বলতে পারি, চাতুরী কেন সন্তানে ।
আমি আমি তুমি তুমি, কর্তা কর্ম পত্নী স্বামী
বায়ূ জল তেজ ভূমি, কিছু নাই তো তুমি বিনে ।
স্বামীতে আমিত্ব লয়, কবে হবে ব্রহ্মময়
সেব্য সেবক দয়াময়, একত্ব প্রতিপাদনে ।
কখন ডোবে কখন ভাসে, অজ্ঞানে জ্ঞান প্রকাশে
কখন আবার আঁধার এসে, ঢাকিয়া রাখে সন্ধানে ।
ভূত ভাব বিকাশিয়ে, দেহ আলো ফুটাইয়ে
দয়াল নামের দোহাই দিয়ে, পার হয়ে যাক দীনহীনে ।
যোগাত্মা একাত্মা করি, রুদ্র রুপ সংবরি
সাধ্য যোগে আইসো হরি, ত্রিতাপ হরিয়ে প্রাণে ।
হরি হরি দয়াময়, যোগে কর নিরাময়
শ্রীপদ সেবাতে কর, নিত্য যুক্ত দুইজনে ।।