বল লো সজনী আমি কোথা পাবো সে কারিগরে ।
নিখুত করে ভাবের ছবি, যেজন এঁকে দিতে পারে ।
(১)
ভাবের মানুষ কি ভাবে সে গড়া
ভাব ধরে দেখেছি তায়, না দেয় সে ধরা ।
ধরতে গেলে আপন হারা হইয়ে পড়ি ভাবের ভোরে ।।
(২)
ডুবাইয়ে দুই নয়ন তারা
দেখিয়াছি ভাবের মানুষ, না যায় পাশরা ।
সে তো আপনি এসে ঢেউ খেলায়ে, ডুবাইয়া দেয় অতল নীরে ।।
(৩)
ভরা ভরা এক ভাবের চেহারা
প্রাণ আমার নিয়াছে কেড়ে আপন হারা ।
তারে ধরতে গেলে না দেয় ধরা, ধরে দিবে কে আমারে ।
(৪)
গড়তে গিয়ে ভাবমূরতি কয়বার ভেঙ্গেছি
গড়া যায়না ধরা দেয়না, বসে ভাবতেছি ।
যে গড়েছে জগৎখানা, কে গড়িয়া দিবে তারে ।।
(৫)
ভাবের পুতুল ত্রিবেণী উজান
ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিম হয়ে, বাঁশিতে ধরেছে তান
লীলা খেলা সব একজনার, ত্রিগুণে ত্রিগুণা করে ।।
(৬)
ভাবের মানুষ গড়া তো যায় না
মনোমোহন তাই তারি মন ধরতে পায়না ।
শুধু ভাবকান্তিতে আনাগোনা, লীলা নিত্য লীলা করে ।।