কালা শাহ রচিত গান নং ৫

শুনহ মোমিন, দুনিয়া কঠিন, মিছা মায়া এই সংসার ।
তলব আসিলে, সব যাবে ফেলে, কোথায় বাড়ি রবে ঘর ।।
যে জন এগানা, সে হবে বেগানা, আপন নাহি এই সংসার ।
করিম রব্বানা, নাহি পুস্তপানা, তুমি বিনে এই জাহানের ।।
মালেকুল মইয়তে, বান্দিবে যে হাতে, জোর বল খাটবেনা রে ।
গোরেরই আযাব, হইবে কাবাব, ভাব রক্ষা পাবে যারে ।।
এলাহি কাদির, ছমিউন বাছির, তুমি বিনে নাই কাণ্ডার ।
কেবল ভরসা, মনে এই আশা, মোহাম্মদ মোস্তফার ।।
তুমি তো মোক্তার, দুজাহানের ভার, তুমি বিনে নাই নিস্তার ।
সময়ের সাথী, নাহি আর গতি, তুমি বিনে হাশরের ।।
হাশরের ময়দান, ধুপে পেরেশান, তুমি বিনে নাই পানাদার ।
তুমি সখা যার, বেহেশতো গোলজার হইবে নছিবে তার ।।
বেদ্বীন বেঈমান, দোজখে হয়রান, না হইবে খালাস তার ।
আগুনের গর্জনে, কাফির বেঈমানে, শব্দ করে হাহাকার ।।
মোমীন যে ভাই, বেহেস্তের ঠাই, পাইবে নছিবে যার ।
হুর গেলেমান, সুরতের বান, জনে জনে পাবে কত ।।
মণিমুক্তা মেওয়া, না যায় ভাই কওয়া, দিবেন আল্লা পরওয়ার ।
ফুলের বিছানা, তখতো বালাখানা, মেওয়া যত খাইতে পারো ।।
এলাহী আলামিন, যে হবে মোমীন, বেহেশতে জায়গা হবে তার ।
আমি গুণাগার, সদাই ইন্তেজার, না জানি কি হইবে মোর ।।
কালাশা কামিনা, না জানি আপনা, মারা গেলাম এই সংসারে ।
স্বভাবের দোষে এই পরবাসে, না চিনিলাম আপন পর ।।
মুন্সি মোবারক আলী, তান কৃপা বলি, পুঁথি লেখা হইলো মোর ।
বড় দোস্তদার, কি দিমু বাহার, নাই আছে এই সংসার ।।
দয়ার সাগর, তিন ভাই সহোদর, হাতিয়া গ্রাম বাড়ি তান ।
বড় মেহেরবান, মিনউল্লার সন্তান, প্রকাশিত নাম ঠাকুরধন ।
মিষ্ট মুখের হাসি, যেমন রবি শশী, দেখিতে বিদরে প্রাণ ।।
আমি মূর্খ মতি, না জানি ভারতী, কি দিবো তুলনা তান ।
মুর্শীদ কৃপাগুণে, অধম নাদানে, ত্রিপদীর কি মিল জানি ।।
মোমীন মোসলমান, এক মায়ের সন্তান, হিংসা নিন্দা সবে ছাড় ।
মারেফত ভেদ, না জানিলে বিচ্ছেদ, মুর্শীদ ভজে রাস্তা ধর ।।
পাক পরওয়ারে গড়িয়া সংসার, কোন কৌশলে করে খেলা ।
মুর্শীদের চরণ, করিলে ভজন, বুঝিতে পারিবে লীলা ।।