আপে আল্লা কাদির গনি, সবাকার সাই ।
তুমি বিনে দোজাহানে ফইরাদের জাগা নাই ।।
তোমার হাবীব নবী মোহাম্মদ রাসুল ।
কিয়ামতে যার দোয়া করিবেন কবুল ।।
তাহার উম্মত হইতে হইলো মহা দায় ।
জনম লইলাম আমি আখের জামানায় ।।
সত্যমিথ্যা ভেদ বিচার তাজিম করে নাই ।
হালাল হারাম কিছু না মানে এহাই ।।
গাঞ্জা ভাঙ শরাব নেশা খায় বেশুমার ।
হাদীস কোরাণ তারা না পড়ে এতবার ।।
রোজা নামাজ আমাদের দরকার কিছু নাই ।
লাউ ডুবকি সেতার দোতার, গান বাজনা চাই ।।
মাইয়া সাধন, মাইয়া ভজন, মাইয়া হইলো মূল ।
মাইয়ার ঘরে জন্ম লইলো মোহাম্মদ রাসুল ।।
এই সমস্ত কথা বলে বেশরা ফকীর ।
পাক নাপাকের ভেদ জানেনা, আল্লাহু জিকির ।।
ভণ্ড ফকীরের দল বেহুদা তকবার
এই সমস্ত দেখিয়া ভাগে আলেম পরহেজগার ।।
বে এলেম, নাতরা, খদারা, সেনাক ।
ফরমাইছেন রাসুলুল্লা দেখিয়া বিপাক ।।
এমন কঠিন দিন আসিলো সাক্ষাৎ ।
মুন্সী মোল্লা আলেম ওলামার উইঠা গেলো ভাত ।।
না মানে দলিল তারা হাদীস কোরাণ ।
দিনে রাত্রে গায় খালি মারফতি গান ।।
হাদীস কোরাণ মতে কভু চলে নাই ।
বেহুদা তকরার করে, ঝগড়া আর লড়াই ।।
গানের অর্থসর্থ কিছু বোঝে নাই ।
অজ্ঞানের জ্ঞান গান, বুইঝে দেখো ভাই ।।
মারেফতি ভেদ কথা গানে বেশুমার ।
গানের জনম হইলো দিলের মাঝার ।।
ফানা ফিশ শেখ, ফানা বাকা, ফানাই কারবার ।
গানেতে খুলিয়া যায় তাজাল্লির দ্বার ।।
নিগূঢ় বসিয়া গান গায় যেই জন ।
তাজাল্লির দ্বার খোলে, তুষ্ট হয় মন ।।
যতেক আওয়াজ আছে সংসার মাঝার ।
আছেই মানে তার, জানো পরিস্কার ।।
যে বোঝে আওয়াজের মূল, শোনা চাই তার ।
অপরে শুনিলে পরে হবে গুনাগার ।।
আরেজা ছামিউন গানের মিছাল ।
তফসীর আহমদে দেখো করিয়া খেয়াল ।।
ইয়াদুল্লাহি ফাওকা আইদিহিম বলে নিরঞ্জন ।
মুর্শীদেরই হাতে ধরো করিয়া যতন ।।
এমন অমূল্য কথা না করে স্মরণ ।
মাইয়া সাধনের জন্য গান বাজনা কীর্ত্তন ।।
হাউস হিরিছে মত্ত হইয়া ।
মাইয়া সাধন জায়নামাজ লয় বিছাইয়া ।।
ফাছেকী এশকেতে ফকীর হইলো মশগুল ।
না ডরে খোদারে ফকীর, না ডরে রাসুল ।।
মণিরত্ন এশকে বান্ধা, মুর্শীদের পাশ ।
মাইয়ার লোভেতে ফকীর হইলো বিনাশ ।।
তিন অক্ষরে নাম তার, থাকে স্ত্রীলোকের কাছে ।
প্রথম অক্ষর ছাড়িয়া দিলে সবের কাছে আছে ।।
মাঝের অক্ষর ছাড়িয়া দিলে সবে তারে খায় ।
শেষের অক্ষর ছাড়িয়া দিলে জলে ভাইসা যায় ।।
এমন অমূল্য কথা, বোঝা হইলো দায় ।
কুয়ার ব্যাঙ্গেরে কেবা সমুদ্দুর দেখায় ।।
ত্রিপুনির ঘাটে যেবা নিত্যি চান করে ।
কোটি কোটি পাপে তারে কি করিতে পারে ।।
কোথা আল্লা, কোথা রসুল, কোথা মুর্শীদও সুজন ।
ত্রিপুনিতে ডুব দিলে মিলিবে তিনজন ।।
এইসব কথার ভেদবিচার কিছু বোঝেনাই ।
লম্বা কোর্তা, মাথায় বাবরী, পীর হইলো ভাই ।।
নাচেকুদে জিকির পড়ে, ফকীরি মেলায় ।
গাজাতে মারিয়া দম, চোখ পাকড়াইয়া চায় ।।
এমন গজব দেখো লইলো ঘিরিয়া ।
ঘরে ঘরে গান-বাজনা করেন বসিয়া ।।
ইলমে তাসাউফ, ইলমে ফেকা, ইলমে বেলায়েত ।
যারজির ছিলছিলা আছে কিতাবের হদ ।।
আল্লার আশেক ভাই, যে যাবে হইয়া ।
দিবানিশি জিকির করে নিরলে বসিয়া ।।
তাহার মনের ভেদ অন্যে জানে নাই ।
দিবানিশি আহাজারি, আল্লা পাক সাঁই ।।
করিম রহিম আল্লা, রহিম রহমান ।
তুমি বিনে দোজাহানে নাহি পরিত্রাণ ।।
তোমার এশকেতে মওলা হইয়া জারেজার ।
পুরাও বাসনা মওলা, আমি খাকছার ।।
এই মতে মিনতি করে আল্লার দরগায় ।
গান বাজনা ঢোল ডুবকি সে নাহি চায় ।।
এশকের পোলাদ তীর লাগে যার গায় ।
জরু লাড়কা জমিদারী কিছু নাহি চায় ।।
কেবা মাতা কেবা পিতা, কেবা সহোদর ভাই ।
আল্লা বিনে তার ধিয়ানে আর কিছু নাই ।।
এমন আশিক যেজন দুনিয়া মাঝার ।
তার পায়ের ধূলি লইলে গোনাহ হবে ছারখার ।।
খালেছ আল্লার বান্দা, নবীজির উম্মত ।
মুর্শীদ ভজিয়া সে করে ইবাদত ।।
কবিরা ছগিরা গোনাহ, শিরিক বিদাত ।
এই সব গোনার ডরে কান্দে দিনরাত ।।
শোনো ভাই মোসলমান, চেনোহে ঈমান ।
মুর্শীদ ঈমান বৈঠা ধরো, না হবে বেঈমান ।।
এই যে কঠিন কথা, বুঝে ওঠা ভার ।
বেমুরীদা শুনলে কথা, না হবে এতবার ।।
পাকি হালে সাফ দিলে যে পড়ে জিকির ।
মুর্শীদ ঈমান বৈঠা ধরো মিলিবে ফিকীর ।।
অধম কালাশায় বলে আমি খাকছার ।
ভুলচুক মাফ করো, তকছির আমার ।।
বিফলে মানব জনম গেলো মোর মিছে ।
কিরূপে দেখাবো মুখ এলাহীর কাছে ।।
আমা হইতে না হইলো সাধন ভজন ।
মনিষ্যি দুর্লভ জনম, গেলো অকারন ।।