আল্লা পরওয়ার সবাকার, মালিক মোক্তার ।
রাখ মার যাহা কর তেরা এক্তিয়ার ।।
আপে আল্লা কাদির গনি, সবাকার সাঁই ।
তুমি বিনে দুজাহানে ফইরাদের জাগা নাই ।।
তোমার হাবীব নবী মোহাম্মদ রাসূল ।
কিয়ামতে যার দোয়া করিবায় কবুল ।।
তাহার উম্মত দাবী করি গুনাগার ।
গুনাগার উদ্ধারিতে না আছে কাণ্ডার ।।
আরশ, কুরস আর লওহ আর কলম ।
তাহার নূরেতে পয়দা তোমারই করম ।।
লাখে লাখে নিয়ামত দিলো পরওয়ার ।
খাইয়া পিয়া বান্দা করে শুকুর হাজার ।।
আসমান যমিন আর হাশর মিজান ।
মোহাম্মদী নূরে পয়দা করে সোবাহান ।।
শোনোরে মোমিন ভাই, শোনো দিয়া মন ।
আদম গড়িলো আল্লায় বন্দেগীর কারণ ।।
এবাদত বন্দেগী করো আছো যতজন ।
বেহেশতো গুলজার হবে, দুনিয়া রোশন ।।
ভজোরে পাগেলা তন, জপো নিরঞ্জন ।
ভজিলে মুর্শীদের পদে, পাইবে রতন ।।
আব, আতস, খাক, বাতে বানাইয়া ঘর ।
তারি মাঝে করইন খেলা আপে একাশ্বর ।।
না আছে শরীক তান, না আছে ছল্লাদার ।
আপনি সাহেব বিচে, আপনি মোক্তার ।।
বানাইয়া আদম তরী রঙ্গরসে খেলা ।
কলব, রুহ, ছিররো খপি স্থানে স্থানে মেলা ।।
চক্ষু যদি নাহি দিত আপে পাক সাঁই ।
মিছা এ জিন্দেগী হইতো, ঝুটা দুনিয়াই ।।
কার স্ত্রী, কার পুত্র, কার ধনজন ।
জাগিয়া দেখরে ভাই, নিশির স্বপন ।।
এই যে জোয়ানী তোমার কি কামে আসিবে ।
মইয়ত সময় কিছু জোর না খাটিবে ।।
এমন সুন্দর তনু যাবে মাটি হইয়া ।
কেনরে অজ্ঞান মন তুমি রইয়াছো ভুলিয়া ।।
এখনো সময় আছে ওরে অজ্ঞান মন ।
মুর্শীদ ভজিয়া তুমি করহে সাধন ।।
না হবে সঙ্গের সাথী পুত্র পরিজন ।
কবর, হাশরের গতি মুর্শীদ সুজন ।।
মুর্শীদ পরশমণি, হৃদয়ের জ্যোতি ।
মুর্শীদ বিহনে দেহ আন্ধারিয়া রাতি ।।
প্রদীপ বিহনে কভু নাহি যায় খানা ।
মুর্শীদ বিহনে দেহ চোখ থাকিতে কানা ।।
অধম কালাশায় বলে আমি বেফানা ।
মুর্শীদ বিহনে ভাসি সমুদ্রের ফেনা ।।