জালাল উদ্দিন খাঁ রচিত গান নং ৮৯

সাধ না মিটিলো আশা না পুরিলো
সকলি ফুরায়ে গেলোরে ।।
খেটে দিবানিশি করে উপার্জন
দু চারদিন পেলেম হয়তো গৃহিনীর মন
মায়া রাক্ষসিনী, সুখের সঙ্গিনী
দুঃখের ভাগী আরা না হলোরে ।।
মনপ্রাণ দিয়ে মম করিয়ে যতন
পালিয়ে তুলেছি ঐ পুত্র কন্যা ধন
ছেলে মেয়ের মায়া, ছায়াবাজির ছায়া
যার তার ভাবে তারা চলেরে ।।
ভাইয়ের ইচ্ছা দেখি, খুবই তাড়াতাড়ি
আমি মরিলেই পায় মাতব্বরি
নিতে ভাগ করিয়া, সবেরে ঠকাইয়া
তাইতো যেমন ঘটিলোরে ।।
কত আশায় বেধেছিলাম বাড়িঘর
রঙ্গ রসে বসে থাকবো নিরন্তর
আর তো হলোনা, বুঝিলাম ছলনা
শমনজারির সময় এলোরে ।।
কালো মাথা হলো সাদা, চক্ষে দেখি ঘোর
বল শক্তি হরিয়ে নিলো, কেমন চোর
দন্ত নড়েচড়ে, কানে তালি মারে
রসে বাতে ধরে খাইলোরে ।।
মরম বেদনায় হয়ে গেলাম সারা
তাবিজ বড়ি কতই দিয়ে গেলো তারা
পেটে অগ্নিমান্দ্য, থাকে কোষ্ঠবন্ধ
দিনে দিনে সব বাড়িলো রে ।।
খাইতে গেলে ঠেকে, মুখে রুচি নাই
ঘৃত চিনি দুধে, কি করিবে ভাই
তামাক খেতে কাশ ওঠে বারোমাস
কত না যন্ত্রণায় পাইলোরে ।।
আলস্য আসিয়া দেহ করে দিছে মাটি
বুঝিতে বাকী নাই, পড়ে গেছে ভাটি
জোড়া তালি দিয়ে, রাখবো কি টানিয়ে
জালালে কয় খোদা বলো রে ।।