জালাল উদ্দিন খাঁ রচিত গান নং ১০১

প্রাণায়াম অভ্যাস কর, সাধন পথে মন আমার
রেচক পূরক কুম্ভকেতে লুপ্ত কর কাম বিকার ।।
পরে ষটচক্র শোন নিগুমেতে কর ধ্যান
দম সামর্থ্যে কর সাধন, গুহ্যমূলে মূলাধার
সেই পদ্মেতে কুণ্ডলিনী, ভূজঙ্গ সেই রূপিনী
সাড়ে তিন প্যাচ দিয়ে তিনি, দৃষ্টি রাখছেন সহস্রবার ।।
উর্ধ্ব দেশে চলোরে মন, বীজ মন্ত্র করে রোপন
ছাড়াইয়া লও ধরা সাধন, দেখবে মজা চমৎকার
ডাকিনী যোগিনী নিয়া, আছেন মা সুখে ঘুমাইয়া
উর্দ্ধশ্বাসে লও জাগাইয়া, রুদ্ধ রাখছে ব্রহ্মদ্বার ।।
চলরে জাহ্নবীর কূলে, স্বাধীষ্ঠান ষড়দলে
ঝম্প দিয়ে পড়গে জলে, যদি মন জানো সাঁতার
স্নিগ্ধ জলে শুদ্ধ হইয়া, জলের উপর আসন নিয়া
মণিপুরে যাও চলিয়া, থাকবে না আর অন্ধকার ।।
কমল বরণ মণি কোঠা, একটি ফুলের পাখি দশটা
যদি হইতে পারো নিষ্ঠা, খাইবে মধু বেশুমার
অগ্নিকুণ্ডের কোলাহলে, কান ফেটে যায় ভূমণ্ডলে
ঝাপ দেওগে সেই চিতানলে, যদি ইচ্ছা থাকে কার ।।
লোল জিহ্বা ধুধু করে, যেজন সাহসের জোরে
দম রাখিয়া পুড়ে মরে, অগ্নি হয় তার তাবেদার
সেই অগ্নিতে হলে দাহন, হয়ে যাবে অগ্নিবাহন
সিদ্ধ হবে কর্মকারণ, কাঞ্চন বরণ হবে তার ।।
হৃদিপদ্ম অনাহত, বারোটি দল রয় পবিত্র
নারায়ণ বিরাজিত, বায়ুতে তার আহার বিহার
সেই পদ্ম হইলে সাধন, বায়ুর সনে করবে ভ্রমণ
পরমাত্মা হবে দর্শন, পূণর্জন্ম হবেনা আর ।।
ষোলো দল কণ্ঠমূলে, বিশুদ্ধাক্ষ পদ্ম বলে
সাধন হলে আকাশ কোলে, সুখের নাহি পারাপার
সুষুন্মার ছিদ্র দিয়া, দ্বিদল পদ্মে ওঠো গিয়া
আজ্ঞাচক্র ভেদ করিয়া, করে লও জাতের বিচার ।।
ব্রহ্মপুরে সহস্র দল, সাধকের সাধনার বল
রাজ্য সম্পদ সবই বিফল, কুণ্ডলিনী জাগে যার
সেই দেশেতে গেলে পরে, মুক্ত জীব বলে তারে
জালালে কয় যাবে সেরে, যমের নাইরে অধিকার ।।