প্রেম করা কি সকলে জানে
প্রেমের আছে একটা ওজন
জানে না যেজন
ঘটে তার বিড়ম্বন, ত্রিভুবনে ।।
প্রেম করে গেলো কজন, করে দেখো স্মরণ
জুলেখায় প্রেম করিলো ইউসুফের সনে
থাকিতে জীবন ছাড়েনা কখন
ছাই দিয়া গেলো তার কূলমানে ।।
হইলো আশি বৎসর, জুলেখা উম্মর
কাঁদিতেছে তবু ইউসুফের সনে
একদিন ইউসুফ নবী, প্রেমের খুবি
শিকারের জন্যে গেলেন ময়দানে ।।
নবী শিকারে গেলেন, জুলেখা শুনিলেন
রাস্তার ধারে যাইয়া, বসিলেন ধ্যানে
নবী শিকার ছাড়িয়া, আসিতেছেন ফিরিয়া
রাস্তার ধারে চাইয়া, দেখে একজনে ।।
জুলেখারে দেখিয়া, ইউসুফ যায় কইয়া
কে গো রাস্তার ধারে, সরো এক্ষণে
জুলেখা জিগায়, তুমি কও আমায়
ইউসুফ নবীজি আমার, আসবে কোনদিনে ।।
ইউসুফে শুনিয়া গেলেন বলিয়া
তুমি কি জুলেখা গো, কও আমার সনে
জুলেখা জিগায়, তুমি কও আমায়
তুমি কি ইউসুফ আমার, আইলে এখানে ।।
পরিচয়টা পাইয়া, জুলেখা যায় কইয়া
হাতের চাবুক ধরো আমার, নাকের সামনে
ইউসুফে শুনিলেন, চাবুক ধরিলেন
চাইয়া দেখেন, চাবুকে ধরছে আগুনে ।।
আগুন দেখিয়া, ইউসুফ যায় কইয়া
আগুন নিভাও, নইলে মরবো প্রাণে
কয় জুলেখা বুড়ি, আশি বৎসর ধরি
পুড়িয়া ছাই হইলাম, তোর ওই আগুনে ।।
একদিন কি সহেনা, শুনে ইউসুফ দেওয়ানা
নিবেদন করেন সাঁই নিরঞ্জনে
ওহে প্রভু নিরঞ্জন, মিটাও মোর আকিঞ্চন
জুলেখার নব যৌবন, দেখতাম নয়নে ।।
দোয়া কবুল করিলো, নবযৌবন পাইলো
রহিলো জুলেখা, ইউসুফ যেখানে
ছিলো আরেক পাগলী, নামেতে লায়লি
এই ভাবে প্রেম করিলো, মজনুর সনে ।।
পিরিতের সাগর বড়ো ভয়ঙ্কর
জাগে অতি ডর, পড়িলে মনে
দুর্বিন শার জীবন, গেলো অকারণ
কেমনে প্রেম করা যায়, তাও না চিনে ।।