দুর্বিন শাহ রচিত গান নং ৩০৩

কুল গেলো কলঙ্ক রইলো ওলো সহচরী
যৌবন সময় প্রাণের বন্ধু হলো দেশান্তরী রে
কলঙ্কিনী যার লাগি ।।
যৌবন সময় প্রাণের বন্ধু যদি গেলো ছাড়ি
আমারই যৌবন সাগরে কে দিবে আর পাড়ি
কালবৈশাখে ফুটলো গাছে নানান জাতের ফুল
নতুন মাসে বন্ধুর আশে মন হইলো আকুল ।।
আইলো জ্যৈষ্ঠ কত কষ্ট বন্ধুহারা হইয়া
নতুন ফুলের টাটকা মধু কারে দেই সপিয়া
ভ্রমর হইয়া আসতো যদি বন্ধু কালাচান
আদরে ফুলেরই মধু সদায় করতো পান ।।
আষাঢ় মাসে নদী ভাসে নির্ঝরের জলে
কূল ভাসিয়া নদীর স্রোত অতি বেগে চলে
আমারই যৌবনের স্রোত চলছে অবিশ্রাম
কে আসি খেলিবে সাতার ঘরে নাই মোর শ্যাম ।।
আইলো শ্রাবণ নতুন যৌবন বারিষা চঞ্চল
যৌবন নদী হলো বাদী করে টলমল
আমারই যৌবনসাগরে দিলোনা কেউ পাড়ি
বন্ধু বিনে কে হবে মোর যৌবনের ব্যাপারী ।।
ভাদ্র মাসে ছড়া আসে বাড়ির গুয়া গাছে
স্বামী হারা হইয়া নারী আর কতদিন বাচে
পন্থপানে চাইয়া রইলাম নারী অভাগিনী
যাইতে নারি তার উদ্দেশ্যে বাদী ননদিনী ।।
ভাদ্র গেলো আশ্বিন আইলো বারিষা হলো শেষ
আমি রইলাম আসার আশে শ্যাম রইলো বিদেশ
যৌবন নিশি প্রভাত হইলো বন্ধু না আসিলো
অভাগিনীর মনের দুঃখ মনেতে রহিলো ।।
আশ্বিন গেলো কার্তিক আইলো নদী গেলো শুকাইয়া
আর কি শ্যাম আসিবে দেশে ভরা নদী বাইয়া
আমি অবলা নারীর আশায় পড়লো ছাই
এ নব যৌবন আমি আর কারে বিলাই ।।
অঘ্রান মাসে সবে হাসে মাঠে পাকে ধান
গৃহস্থ ভাই ধানের গোলা করতেছে নির্মাণ
আমি অবলা নারী রইলাম আসার আশে
কার জন্য সাজাইলাম শয্যা বন্ধু নাই মোর দেশে ।।
পৌষ মাসে দারুণ উষে করলো অন্ধকার
দুঃখেরই উপরে দুঃখ কত সইবো আর
গাছেতে কমলা পাকে কত লোক খায়
আমারই যৌবন কমলা ডালেতে শুকায় ।।
পৌষ গেলো মাঘ আসিলো শীতের বড়ো ভয়
সহায় সম্বল তার পতি যার সদয়
আমি অবলা নারীর অসার জীবন
প্রাণবন্ধু পাইলে তারে করতাম আলিঙ্গন ।।
ফাল্গুন মাসে ডালে বসে কোকিল করে রাও
ডাকিওনা রে প্রাণের কোকিল আমার মাথা খাও
যায় বসন্ত প্রাণকান্ত নাই রে আমার দেশে
দায় হইলো মোর প্রাণী রাখা শীতল বাতাসে ।।
আইলো চৈত্র কালবসন্ত যাবে রে ফুরাইয়া
যৌবন লীলা সাঙ্গ হলো বন্ধু রে না পাইয়া
কয় দুর্বিন শা কেন্দে কেন্দে গেলো বারোমাস
যাইতে হলো ছেড়ে দিয়া, দিয়া বিদেশের প্রবাস ।।