শাহসূফি দেওয়ান আব্দুল আযীয এর গান নং ১০

বৎস, বলিরে আবার, ৯ নম্বর ছওয়ালের জবাব প্রচার ।।
এবাদতে কিছিম আছে কতেক প্রকার,
এক এবাদত আছে বদনে শুমার ।
দোছরা এবাদত দিলে বুঝিলে সন্ধান,
তৃতীয়াতে এবাদত জানের কারবার
শরিয়ত ও তরিকত, হাকিকত সাধন,
এই ভেদ বড় কঠিন ওহে বাছাধন ।
'লা ইয়ানজুরু এলা ছোওয়ারে কুম' আছে ত দলিলে,
জাহেরী ছুরতে নাই নজর তাহার ।।
'অলা আমওয়ালেকুম' আছে, শোন তার মানি
মালে নজর নাহি করে আপে কাদের গণি ।
'ওয়া আমালেকুম ও আফআলেকুম' ইহার পরে কয়
কর্মে আর আমলেতে দৃষ্টি নাই তার ।।
'অলাকিন ইয়ানজুরু এলা কুলুবেকুম'
এতদসঙ্গে বলে আরও 'নিয়াতে কুম' ।
কিন্তু নজর করে খোদায় দিলেতে বান্দার,
আর নজর রাখে তার নিয়তের মাজার ।।
এই ভেদ না বুঝিলে, না হইলে মালুম,
রহমানী নূরানী লজ্জত হইবে মাদুম ।
কি ফায়দা হাসিল হবে, জীবন বিফল,
বুঝিবার তরে বলি মতলব ইহার ।
বাদশার এবাদত আর সর্ব সাধারণ,
একই প্রকার নহে রাখিবা স্মরণ
ফকীরের এবাদত ভিন্ন রকম আছে,
ফকীরের কাম বাদশা করলে কুফুরী তাহার ।।
বাদশাহী ছাড়িলে হবে ফকীরি কামাই,
বাদশাহীতে শাহ হবার কোন পথ নাই ।
ফকীর যদি বাদশাহীতে মনোনিবেশ করে,
একূল সেকূল দুইকূল ধ্বংস হইল তাহার ।।
কামেল মুর্শেদ যদি হুশিয়ার হয়,
ভেদে ভেদে মুরিদ লোকে নিয়ম বাতায় ।
অতএব বলি শোন ওহে প্রিয়বর,
অতিশয় খোশ নছিব কামেল পীর যাহার ।।
ফকীরিতে দুইটা রাস্তা জানিবা একিনে,
জাহেরিতে আছে একটি, আর একটি বাতেনে ।
এই দুই পথ বাছা ধরিতে যে চায়,
কামেল মুর্শেদ পাইলে এই পথের উদ্ধার ।।
তিন প্রকার হয় দম শুন বৎস বলি,
সাহাওয়াত রোশনী জান এক প্রকারের বুলি ।
লালসার রোশনী জান দ্বিতীয় প্রকার,
তৃতীয়াতে গোস্বা বাছা, এই তিনে শুমার
এই তিন শত্রু যদি দফে করতে চাও,
মুর্শেদের এজাজতে খেলাওয়াত ঘটাও ।
খেলাওয়াতে বিনাশ হবে এই তিন বালাই,
তখন বুঝিবে বাছা অতি চমৎকার ।।
আবদুল আযীয বলে বৎস, জীবন থাকিতে,
চেষ্টা বিহনে থাকে যাহারা এই পথে ।
জীবন বিফল তার, কোন মূল্য নাই,
গঞ্জে মুখফি থাকা সত্বে দরিদ্র অপার ।।